মাইজভান্ডার দরবার শরীফ

চট্টগ্রাম জেলার মাইজভান্ডার –ছায়া ঘেরা পাখী ডাকা বাগানতুল্য শান্তিময় এই পল্লী,যাঁহার অধ্যত্ম শরাফতের কল্যাণে সারা বিশ্বে ‘মাইজভান্ডার দরবার শরীফ’ নামে খ্যাত সেই মহান গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী হযরত মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (কঃ) এই স্থানে ১২৩৩ বাংলা (১৮২৬ খৃষ্টাব্দ) ১লা মাঘ শুভ জম্মগ্রহণ করেন।দেশীয় শিক্ষা শেষে হিজরি ১২৬০ সনে কলিকাতা আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হন এবং অধ্যায়ন শেষে তিনি যশোরে কাজীর পদ গ্রহণ করেন। উক্ত পদে ইস্তাফা দেওয়ার পর কলিকাতায় মুন্সি বু আলী ছাহেবের মাদ্‌রাসায় শিক্ষকতা করেন। তিনি বিল আছালত বা স্বভাব সিদ্ধ জম্মগত অলী উল্লাহ ছিলেন। মোখালেফাতে নফ্‌ছ বা প্রবৃত্তির বিরুদ্ধচারণে বিল মালামত বেলায়ত অর্জন করেন।হজরত পীরানে পীর (কঃ) এঁর বংশধর ও কাদেরীয়া তরিকার খেলাফত প্রাপ্ত গাউছে কাউনাইন হযরত শেখ সৈয়দ আবু শাহামা ছালেহ আল কাদেরী লাহোরীর দস্তে বায়াত গ্রহণ করিয়া গাউছিয়তের খোদা-দাদ খনি এবং পীরে তরিকতের বড় ভাই হযরত সৈয়দ দেলোয়ার আলী পাকবাজ হইতে এত্তেহাদী কুতুবিয়তের ফয়েজ হাসিল করিয়া কামেলে মোকাম্মেল হন। অধ্যত্ম ক্ষেত্রে অনাবিল করুনা বর্ষনের পর ১৯০৬ ইং ২৩শে জানুয়ারী ,বুধবার এই মহান গাউছুল আজম ওফাত প্রাপ্ত হন। ওফাতের পূর্বে তিনি অর্জিত গাউছিয়ত কুতুবিয়তের মহিমা সমৃদ্ধ শরাফত জারী রাখার লক্ষ্যে নিজ আদরেরর নাতী হযরত মাওলানা শাহ্‌ ছুফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) কে “বালেগ” ঘোষণা করে নিজ গদীতে বসানোর মাধ্যমে সাজ্জাদানশীন মনোনীত করে যান, যিনি ১৯৮২ সালে ওফাত প্রাপ্ত হন। পুনরায় সাজ্জাদানশীন-এ- গাউছুল আজম (কঃ) ওফাতের পূর্বে এই শরাফতের ধারা জারী রাখার লক্ষ্যে ১৯৭৪ সনে নিজ ৩য় পুত্র হযরত মাওলানা শাহ ছুফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী (মঃ) কে তাঁহার রচিত মানব সভ্যতায় “যোগ্যতম ” ঘোষণা , জীবদ্দশায় প্রকাশিত জরুরী বিজ্ঞপ্তিতে তাঁহার গদীর স্থলাভিষিক্ত সাজ্জাদানশীন মনোনীত করে শিক্ষা-দীক্ষা , শজরা-দান, ফতুহাত নিয়ন্ত্রন অধিকার সম্পন্ন এই গাউছিয়ত জারী সফলতা দানকারী সাব্যস্ত করে যান। হযরত কেবলা কাবার গাউছিয়ত কুতুবিয়তের মহিমা সমৃদ্ধ শরাফতের এই ধারা শজরা প্রাপ্ত মনোনীত সাজ্জাদানশীনের মাধ্যমে হাশর তক্‌ জারী থাকবে।–ইনশা আল্লাহ

কর্মসূচী সমূহ
  • প্রতি বুধবার বাদ মাগরিব চট্টগ্রাম খুলশীস্থ খানকা শরীফে মিলাদ,তাওয়াল্লোদে গাউছিয়া ও জিকির মাহফিল
  • প্রতি শুক্রবার বাদ এশা মাইজভান্ডার শরীফে মিলাদ,তাওয়াল্লোদে গাউছিয়া ও জিকির মাহফিল
  • ১০ই মাঘ ২৩ জানুয়ারী গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী হযরত মওলানা শাহ্‌ ছুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (কঃ) এঁর ওরশ শরীফ
  • ১০ই মুহর্‌রম শাহাদাতে কারবালা মাহফিল
  • আখেরী চাহার সোম্বা উপলক্ষে চট্টগ্রাম খুলশীস্থ খানকা শরীফে খতমে কোরআন ও খতমে বোখারী শরীফ
  • মাইজভান্ডারী তাসাউফ সংলাপ
  • বৃক্ষরোপন ও বিতরণ কর্মসূচী।
  • গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) মেধাবৃত্তি ।
  • ২৭ শে রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম মাহফিল
  • ২২ চৈত্র ৫ এপ্রিল গাউছুল আজম বিল বেরাছত কুতুবুল আকতাব হযরত মওলানা শাহ্‌ ছুফী সৈয়দ গোলামুর রহমান প্রকাশ বাবা ভান্ডারী (ক) এঁর ওরশ শরীফ
  • ২৯ শে আশ্বিন ১৪ অক্টোবর গাউছুল আজম বিল বেরাছত কুতুবুল আকতাব হযরত মওলানা শাহ্‌ ছুফী সৈয়দ গোলামুর রহমান প্রকাশ বাবা ভান্ডারী (ক) এঁর খোশরোজ শরীফ
  • মাইজভান্ডারী সেমিনার।

গাউছুল আজম হযরত মওলানা শাহ্‌ ছুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ)


জম্ম ও বংশ পরিচয়ঃ ১৮২৬ সালে ,হিজরি ১২৪৪,১২৩৩ বাংলা ১লা মাঘ, রোজ বুধবার হযরত মওলানা শাহ্‌ ছুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) জম্ম গ্রহণ করেন। তিনি (কঃ) আওলাদে রাসুল ছিলেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ মতিউল্লাহ (রহঃ) । মাতার নাম সৈয়দা খায়েরুন্নেছা বিবি (রহঃ)।

বিদ্যার্জনঃচার বছর বয়সে গ্রাম্য মক্তবে তাঁর শিক্ষাজীবন আরম্ভ হয়। ১২৬৮ হিজরীতে তিনি কলিকাতা আলিয়া মাদ্‌রাসার শেষ পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন।

কর্মজীবনঃ হিজরি ১২৬৯ সালে তিনি যশোর জেলায় কাজী (বিচারক) পদে যোগদান করেন। ১২৭০ হিজরিতে কাজী পদ থেকে পদত্যাগ করে কলকাতার মুন্সি বু-আলী মাদ্‌রাসার প্রধান মোদার্‌রেছের পদে যোগদান করেন।

আধ্যাত্মিক জীবনের দীক্ষাঃ তাঁর পীরে তরিকত ছিলেন শেখ সৈয়দ আবু শাহমা মুহাম্মদ ছালেহ আল কাদেরী লাহোরী (রহঃ) । অপরদিকে পীরে তরিক্বতের বড় ভাই হযরত সৈয়দ দেলাওয়ার আলী পাকবাজ (রহঃ) –এঁর কাছ থেকে কুতুবিয়তের ফয়েজ অর্জন করেন।

মাইজভান্ডারী তরিকা প্রতিষ্ঠা ও মাইজভান্ডার দরবার শরীফ - এর গোড়াপত্তনঃ
হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) তাঁর পীরে ত্বরিকতের নির্দেশে ১৮৫৭ সালে নিজ গ্রাম মাইজভান্ডারে ফিরে আসেন। আধ্যাত্মিক সাধক ও দোয়া প্রত্যাশীদের ভীড়ে এই সাধকের পবিত্র বাসগৃহ বিশ্ব মানবতার কল্যাণধারক এক উচ্চমার্গীয় আধ্যাত্মিক দরবারে পরিণত হয়। লোকসমাজে পরিচিতি পায় ‘মাইজভান্ডার দরবার শরীফ’ হিসেবে। হযরত কেবলার (কঃ) অসংখ্যা কারামতের ঘটনা বিভিন্ন গ্রন্থে ও লোকমুখে প্রচারিত। যেমনঃ (১) হযরতে আধ্যাত্মিক প্রভাবে মোহছেনিয়া মাদ্‌রাসা প্রতিষ্ঠা ও মোদার্‌রেছ নিযুক্তি। (২) হযরতের আধ্যাত্মিক প্রভাবে এক রাতে মক্কা শরীফ হতে চট্টগ্রাম শহরে হাজীর প্রত্যাগমন। (৩) হযরতের বেলায়তী ক্ষমতায় বাহুতে হাত রেখে জনৈক হাজীর অলৌকিক ভাবে বাড়ীতে প্রত্যাবর্তন (৪) হযরতের আধ্যাত্মিক প্রভাবে বাঘের মুখে লোটা নিক্ষেপে ভক্ত উদ্ধার (৫) হযরতের বেলায়তী প্রভাবে মৃত্যূকালে আজরাইল ফেরত ও ষাট বৎসর আয়ু বৃদ্ধি। (৬) হযরতের আদেশে রেয়াজ উদ্দিন উকিলের ভূ-সম্পত্তি খরিদ ও রেয়াজ উদ্দিন বাজারের পত্তন। (৭) হযরতের আশ্চর্য্য কেরামতে বগলের নীচে কাবা শরীফে মুছল্লির প্রবেশ করতে দেখা -ইত্যাদি। এই ধরনের উচ্চমার্গীয় কেরামত গাউছে আজমিয়তের পরিচয় বহন করে।

হযরত মুহিউদ্দীন ইবনুল আরাবীর ভবিষ্যৎবাণীঃ বিশিষ্ট ছুফী তাত্ত্বিক গবেষক ও বুযুর্গ হযরত মহিউদ্দীন ইবনুল আরাবী তাঁর ‘ফছুছুল হেকম’ গ্রন্থের ‘ফচ্ছে শীচি’ অধ্যায়ে হযরত গাউছুল আজম মওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (কঃ) এঁর আগমণ ও তাঁর গাউছুল আজম হওয়ার ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন।

বিশ্ব মানবতায় বেলায়তের স্বরূপঃ হযরত আকদাছ (কঃ)’র বেলায়তের পরশ পেয়ে ধন্য হয়েছেন মাটিস্ত বুজুর্গানে দ্বীনন এবং তারা জামালী হতে জালালীর মধ্যে রূপ ধারণ করেছেন। কামালিয়তের বা বুজুর্গীর কোন প্রশংসা তাঁর বুজুর্গীতে বাদ পড়েনা। তিনি এমন এক খোদা -প্রদত্ত শ্রেষ্ঠত্ব সম্পন্ন অলি , যিনি খোদার ইচ্ছা শক্তিতে তাঁর গাউছে আজমিয়তের প্রভাবে জনগণের না হওয়ার মত কাম্য বস্তুকে হওয়ার রূপ দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন। তাঁর সাথে হযরত খাজা খিজির (আঃ) এঁর খুবই ঘনিষ্ট আধ্যাত্মিক সম্পর্ক ছিল। সমসাময়িক ওলামায়ে কেরাম ও বুজুর্গগণ তাঁর প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাপূর্ণ উচ্চ ধারণা পোষন করতেন যা তাদের লিখিত কসিদা ,শের,কবিতা,মন্তব্য ইত্যাদি থেকে উপলদ্ধি করা যায়। তাঁর আধ্যাত্মিক পরশ প্রাপ্ত অসংখ্যা অলী-দরবেশ বিভিন্ন স্থানে আধ্যাত্মিকতার দাওয়াত পৌঁছে দিয়ে বিশ্ব মানবতার কল্যাণের অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।

উত্তরাধিকারী খলিফা নির্ধারণ ও গদী অর্পণঃ গাউছুল আজম হযরত মওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (কঃ) তাঁর নশ্বর জীবনের শেষ দিকে এক জুমাবারে এলাকার সমাজপতি ও জনগণের উপস্থিতিতে তাঁর পবিত্র হুজুরা শরীফ দোয়ার মেহরাবে নিজ পুত্র বংশীয় আদরের নাতি সাজ্জাদানশীনে গাউছুল আজম হযরত মাওলানা শাহ্‌ ছুফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) -কে নিজ গদী শরীফ অর্পণে স্থলাভিষিক্ত আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন।

ওফাত ও ওরশঃ গাউছুল আজম হযরত মওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (কঃ) ৭৯ বছর বয়সে ২৩ জানুয়ারী ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ ,১০ মাঘ ১৩১৩ বঙ্গাব্দ ,সোমবার দিবাগত রাতে ইহধাম ত্যাগ করেন। তাঁর ওফাত দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর ৮,৯ ও ১০ মাঘ ৩ দিন ব্যাপী ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়।

অছীয়ে গাউছুল আজম হযরত মওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ)


জন্ম, বংশ পরিচয় ও ওফাতঃ হযরত মওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৩, ১৩ ফাল্গুন, ১২৯৯ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হযরত শাহ্‌ সুফি মওলানা সৈয়দ ফয়জুল হক (কঃ) (১৮৬৫-১৯০২)।তাঁর দাদা গাউছুল আজম হযরত মওলানা শাহ্‌ ছুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (কঃ) । হযরত মওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) ১৯৮২ সালের ১৬ জানুয়ারী ,২মাঘ ১৩৮৮ ,শনিবার ইন্তেকাল করেন।

আধ্যাত্মিক জীবনের দীক্ষা ও আধ্যাত্মিক উচ্চাসনঃ গাউছুল আজম হযরত মওলানা শাহ্‌ ছুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (কঃ) ছিলেন তাঁর পীরে তরিকত । অন্যদিকে হযরত মওলানা সৈয়দ আমিনুল হক মাইজভান্ডারী (কঃ) ছিলেন তাঁর পীরে বায়াত ,হযরত মওলানা সৈয়দ গোলাম রহমান মাইজভান্ডারী (কঃ) ছিলেন তাঁর পীরে তাফাইয়োজ। তাঁর আধ্যাত্মিক উচ্চাসনের কথা হযরতের (কঃ) রহস্যপূর্ণ বাক্যের মাধ্যমে প্রকাশ পেতো। যেমনঃ “নবাব হামারা দেলা ময়না হ্যায়,ফের আওর কোন নবাব হ্যায়?” “তোম কোন সুলতান হ্যায়? সুলতান হামারা দেলা ময়না হ্যায়।”

মাইজভান্ডারী ত্বরিকার তাত্ত্বিক বিশ্লেষকঃ হযরত মওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) পরিকল্পিতভাবে মাইজভান্ডারী তরিকার মৌলিক ভাবাদর্শ ও বৈশিষ্ট্যাবলি বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনের প্রয়াস নেন। তাঁর প্রকাশিত ও সম্পাদিত রচনাবলির সংখ্যা ১০ (দশ)। যথাঃ- ১। গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর জীবনী ও কেরামত , ২। বেলায়তে মোত্‌লাকা, ৩। গঠনতন্ত্র , ৪। প্রতিবাদ লিপি, ৫। এলাকার রেনাসাঁ যুগের একটি দিক, ৬। বিশ্ব মানবতায় বেলায়তের স্বরূপ, ৭। মানব সভ্যতা, ৮। মিলাদে নববী ও তাওয়াল্লোদে গাউছিয়া , ৯। মুসলিম আচার ধর্ম, ১০। মূলতত্ত্ব বা তাজকীয়ায়ে মোখতাছার (১ম খন্ড)। এই সব গ্রন্থাবলি মাইজভান্ডারী ত্বরিকা সম্পর্কে জানার ও গবেষণার Primary source হিসেবে বিবেচিত।

ঐতিহাসিক বিশেষত্ব ও ‘অছীয়ে গাউছুল আজমঃ’- তাঁর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক বিশেষত্ব এই যে, তিনি গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) এঁর জাগতিক বংশধারা ও আধ্যাত্মিক ‘গাউছিয়ত’ -এর একক উত্তরাধিকারী ছিলেন। এই অনন্য জাগতিক ও আধ্যাত্মিক বিশেষত্বের ফলশ্রুতিতে তিনি মাইজভান্ডারী পরিমন্ডলে ‘অছীয়ে গাউছুল আজম’ হিসেবে পরিচিত।

মাইজভান্ডারী তরিকার আদর্শ প্রচারে সাংগঠনিক ভিত্তিঃ হযরত মওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) পীরি ছায়র বা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মুরিদ করানো ও হাদিয়া গ্রহণ করার প্রথা বিরুদ্ধ ছিলেন। সর্বস্তরের মানুষের কাছে মাইজভান্ডারী তরিকার দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার জন্য “আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভান্ডারী ” নামক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

নির্বিলাস জীবনাচার ও খাদেমুল ফোকরাঃ হযরত মওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও নির্বিলাস জীবন-যাপনে অভ্যস্ত। অতি বিনয়ে নিজ পরিচয় দিতেন খাদেমুল ফোকরা বা আল্লাহর ফকিরদের সেবক। তিনি তাঁর জন্য মাজার না করার এবং আলাদাভাবে কোন ওরশ না করার জন্য অছিয়ত করে যান। তাঁর এই অছিয়তের প্রতি সম্মান প্রদর্শন পূর্বক তাঁর কোন মাজার নির্মাণ করা হয়নি এবং তাঁর জন্য আলাদা কোন ওরশের আয়োজন করা হয়না। মানব ও মানবাত্মার অন্তিম যাত্রা ও চিরস্থায়ী গন্তব্যের মর্মস্পর্শী চিত্র ফুটে উঠেছে তাঁরই রচিত কবিতার মাঝে-


মানব প্রকৃতির কঠিন আকৃতি তোমার মদিরা পাত্র।
সরস মাটির বিশাল দেহ তোমারই ফুল ক্ষেত্র।
কোলাহল পরিহারে,নির্জনতার আসরে ,
তোমারই প্রতীক্ষায় রহিয়াছে আজি-তোমারই বাসরে।

মাইজভান্ডারী তরিকা


ইসলাম ধর্মে আধ্যাত্মিক সাধনার ধারাবাহিকতায় উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে কোরান ও হাদীসের শিক্ষাকে অনুসরণ করে গাউছুল আজম হযরত মওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (কঃ)-এঁর আধ্যাত্মিক শক্তি ও শিক্ষাকে ধারণ করে মাইজভান্ডারী তরিকা প্রচারের সূচনা হয়। হযরত মওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) বলেন, “ এই ত্রিবিধ বেলায়তী ধারা ,নবুয়তী ধারার সমন্বয়ে অর্থাৎ জাহের বাতেন তা’লীমে এরশাদী সহ শরীয়ত ,তরীকত ,হাকীকত ও মায়ারেফত প্রভাবে ও সংমিশ্রেণে মাইজভান্ডারী তরীকারূপ মহা সাগরের উৎপত্তি।” মাইজভান্ডারী তরিকার বৈশিষ্ট্যঃ এই তরিকা ছিলছিলার দৃষ্টিকোণে কাদেরীয়া তরিকার সাথে সম্পর্কিত। অন্যান্য তরিকার আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্যগুলো মাইজভান্ডারী তরিকায় সন্নিবেশিত হয়েছে। এই তরিকা কোরান ও হাদিসের শিক্ষাকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করে। একই সাথে এই তরিকা অসাম্প্রদায়িক ,উদার,নৈতিক ধর্ম-প্রাধান্যসম্পন্ন,শ্রেণি-বৈষম্যহীন ও মানবদরদী। মানুষের মনে ঐশী প্রেম জাগ্রত করে সুন্দর ও ন্যায়ের পথে জীবন যাপনে মানব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে মানবতার ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করার শিক্ষা ও দীক্ষা দেয়।

হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) -এঁর উত্তরাধিকারীঃ হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) তাঁর ওফাতের পূর্বে আপন নাতি হযরত মওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারীকে (কঃ)বালেগ ঘোষণা করে মাইজভান্ডার দরবার শরীফে তাঁর গদীর আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে যান। হযরত কেবলা (কঃ) এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমার ‘দেলাময়না’ বালেগ। দেলাময়নাই আমার গদীতে বসবে।”

মাইজভান্ডার দরবার শরীফে বর্তমান পীরে তরিকত ও সাজ্জাদানশীনঃ খেলাফত প্রদানপূর্বক সাজ্জাদানশীন মনোনয়নের মাধ্যমে গাউছিয়ত জারি রাখার নিয়মের অনুসরণে হযরত মওলানা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) তাঁর জীবিতাবস্থায় তদীয় তৃতীয় পুত্র হযরত মাওলানা শাহ্‌ সুফি সৈয়দ এমদাদুল হক (মঃ) কে নিজ গদীর উত্তরাধিকারী ও মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন সাব্যস্ত করে যান। তিনি মাওলানা শাহ্‌ সুফি সৈয়দ এমদাদুল হক (মঃ) কে সাজ্জাদানশীনের দায়িত্ব অর্পণের বিষয়টি ‘জরুরী বিজ্ঞপ্তি’ প্রকাশ ও তাঁর লিখিত ‘মানব সভ্যতা’ নামক বইয়ের ভূমিকাংশে উল্লেখের মাধ্যমে প্রামাণ্যকরণ করেন। ‘মানব সভ্যতা’ বইয়ের ভূমিকাংশে তিনি উল্লেখ করেন, “অত্র বইটি আমার জীবন সায়াহ্নে ছাপাইয়া যাইতে পারিব কিনা ভবিতব্য খোদাই তাহা ভাল জানেন। তাই বইটি ছাপাইবার জন্য আমাদের প্রচলিত ‘আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভান্ডারী ’ সমাজ-সংস্কার ও নৈতিক উন্নয়নমূলক সমাজ সংগঠক পদ্ধতির সফলতার উদ্দেশ্যে হানেফী মজহাব এজমা ফতোয়ার ভিত্তিতে আমি যেইভাবে কামেল অলীউল্লাহর নির্দেশিত গদীর সাজ্জাদানশীন সাব্যস্ত তদ্‌মতে আমার ছেলেদের মধ্যে যোগ্যতম সৈয়দ এমদাদুল হক মিঞাকে ‘সাজ্জাদানশীন’ মনোনীত করিবার পর এই গ্রন্থটি তাহার হস্তে অর্পণ করিলাম। ”

মাইজভান্ডারী তরিকার অনুসারীদের প্রতি বর্তমান সাজ্জাদানশীনের কিছু দিক নির্দেশনাঃ মাইজভান্ডার দরবার শরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন হযরত মাওলানা শাহ্‌ সুফি সৈয়দ এমদাদুল হক (মঃ) আধ্যাত্মিক সাধনায় সফলতা লাভের জন্য শরীয়তের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোরারোপ করেন।তিনি বায়াত প্রদানকালে মুরীদদের সবসময় বলেন, “শরীয়তকে বাদ দিয়ে তরিকত নাই। ” তিনি বায়াত প্রদানকালে মুরীদদের প্রথম যে বিষয়ের জন্য বলেন তা হচ্ছে নিয়মিত নামাজ পড়া;রোজা রাখা; সামর্থ্য থাকলে হজ্ব-জাকাত আদায় করা অর্থাৎ ইসলামী শরীয়ত পালন করা। ইসলামী সভ্যতার বিকাশে সুফিবাদের অবদান অনস্বীকার্য।যুগ যুগ ধরে সুফি তরিকাসমূহ ইসলামী চরিত্র গড়ার এক একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাইজভান্ডারী তরিকা জনসমাজকে ধর্মের মূল সৌন্দর্য অবলোকন করে এর অন্তর্নিহিত শক্তির সাথে সম্পর্কযুক্ত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

Latest News

আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী (শাহ এমদাদীয়া)’র ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী (শাহ এমদাদীয়া)’র ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।।

সকালে জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উড়িয়ে কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী (শাহ এমদাদীয়া) কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদের সভাপতি সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম হযরত মওলানা শাহ্ ছুফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম.)। পরে সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম.)’র সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় সচিব শেখ মুহাম্মদ আলমগীরের পরিচালনায় কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়। এতে সংগঠনের সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী (শাহ এমদাদীয়া) কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদের সহ-সভাপতি নায়েব সাজ্জাদানশীন সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী।।

সংগঠনের সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তরীকতপন্থীরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। তারা কখনও সংঘাতে লিপ্ত হয় না। আপনারা সমাজে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে কাজ করবেন। জীবনে রাসূলের আদর্শ অনুসরণ করবেন। আমরা যদি রাসূলের আদর্শ মেনে কাজ করি তাহলে সমাজে পরিবর্তন আসবে, শৃংখলা আসবে। কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদ, সকল জেলা কার্যকরী সংসদ, মহানগর কার্যকরী সংসদ, উপজেলা কার্যকরী সংসদ, থানা কার্যকরী সংসদের সকল কর্মকর্তা, শাখা দায়রা কার্যকরী সংসদ ও খেদমত কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশন, মাইজভাণ্ডারী শাহ এমদাদীয়া ব্লাড ডোনার্স গ্রুপ, গাউছিয়া আহমদিয়া এমদাদীয়া ওলামা কমিটি, মাইজভাণ্ডারী শাহ এমদাদীয়া সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কমিটি, মাইজভাণ্ডারী শাহ এমদাদীয়া প্রচার কমিটি, গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী রিসার্স ইনস্টিটিউটের প্রায় ২ হাজার কাউন্সিলর-ডেলিগেট উপস্থিত ছিলেন।

কাউন্সিলে ২০১৮-২০২১ বছরের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদে নির্বাচিতরা হলেন- সভাপতি সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী, সহ-সভাপতি সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী, সচিব শেখ মুহাম্মদ আলমগীর, যুগ্ম-সচিব অধ্যাপক মেজবাউল আলম ভুঁইয়া শৈবাল, দারুত তায়ালীম প্রধান শিক্ষক মওলানা জয়নাল আবেদীন ছিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক বাবুল, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মহিউদ্দিন এনায়েত, আইন বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সেলিম আহমদ খান। কাউন্সিল শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করেন সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম হযরত মওলানা শাহ্ ছুফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম.)।

Read More News..

‘মাইজভান্ডারী প্রকাশনীর’ প্রকাশিত সুফিতাত্ত্বিক গ্রন্থাবলি

  • হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর জীবনী ও কেরামত (বাংলা ও ইংরেজী)
  • বেলায়তে মোত্‌লাকা
  • মূলতত্ত্ব বা তজকীয়ায়ে মোখতাছার
  • মিলাদে নববী ও তাওয়াল্লোদে গাউছিয়া
  • বিশ্বমানবতায় বেলায়তের স্বরূপ
  • মানব সভ্যতা
  • মুসলিম আচার ধর্ম
  • আয়নায়ে বারী
  • মাইজভান্ডারী কায়দা
  • রত্ন ভান্ডার (১ম ও ২য় খন্ড)
  • জ্ঞানের আলো (ম্যাগাজিন)
  • আমালে মকবুলীয়া ফি ফয়উজাতে গাউছিয়া
  • তত্ত্বভান্ডার
  • জ্ঞানভান্ডার
  • শানে গাউছে মাইজভান্ডার
Download From here...
গাউছুল আজম হযরত মওলানা শাহ্‌ ছুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) –এঁর বাণী

“তাহাজ্জুদের নামাজ পড়,ছালাতু তছবীহের নামাজ পড়িও, কোরান শরীফ তেলাওয়াত করিও।”

“কবুতরের মত বাছিয়া খাও। হারাম খাইও না, নিজ সন্তান সন্ততি নিয়া খোদার প্রশংসা কর ।”

সাজ্জাদানশীনে গাউছুল আজম হযরত সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ)-এঁর বাণী

“গাউছে মাইজভান্ডারীর আদর্শ উর্ধে তুলিয়া ধরিলে বিশ্ববাসীর চোখ চট্টগ্রামের মাইজভান্ডার দরবার শরীফের দিকে ঘুরিয়া যাইবে।”

সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম আলহাজ্ব হযরত সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী (মঃ)-এঁর বাণী

“ঈমান ছাড়া এত্তেবা হয়না,এত্তেবা ছাড়া মোত্তাবেয়ীন হওয়া যায়না।”

মনীষীদের মন্তব্যে গাউছুল আজম হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারীর (কঃ) মাহাত্ম্যঃ

সমসাময়িক ও পরবর্তি ছুফী ওলামায়ে কেরাম তাঁর প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাঁর গাউছে আজমিয়তের স্বীকৃতি দিয়েছেন-
“গাউছে মাইজভান্ডারীর নিঃশ্বাসের বরকতে পূর্বদেশীয় লোকেরা খোদা পন্থী ,হাল ও জজ্‌বার অধিকারী হয়েছে। তিনি কবরস্থ হওয়ার ফলে বিভিন্ন কবরে উজ্জ্বলতা ও জালালী দেখা দিয়াছে। আহমদ উল্লাহ যিনি, তিনি সমস্ত অলিদের সর্দার যাহার ‘ছিফত’ উপাধি গাউছুল আজম।”-মরহুম মওলানা জুলফিকার আলী সাহেব।

“হযরত শাহ্‌ আহমদ উল্লাহ কাদেরী,যিনি ভূখন্ডের পূর্বাঞ্চলে বিকশিত কুতুবুল আক্‌তাব। তিনি মাইজভান্ডার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত গাউছুল আজম নামধারী বাদশাহ।–
রসুলুল্লাহ (সঃ) এঁর নিকট বেলায়তে ওজমা বা শ্রেষ্ঠ বেলায়তের দুইটি সম্মান প্রতীক বা তাজ ছিল। এই সম্মান প্রতীক বা তাজ দুইটির মধ্যে একটি হযরত শাহ্‌ আহমদ উল্লাহ (কঃ) এঁর মস্তক মোবারকে নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত।
যেই কারণে তিনি পূর্বাঞ্চলে আবির্ভূত গাউছুল আজম বলিয়া খ্যাত,সেই কারণে তাঁহার রওজা মোবারক মানব-দানবের জন্য খোদায়ী বরকত হাছেলের উৎসে পরিণত হইয়াছে। ”- ,আলহাজ্ব মওলানা ছৈয়দ আজিজুল হক আল কাদেরী ছাহেব (শেরে বাংলা)

Upcoming Events

সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরিকত আলহাজ্ব হজরত মাওলানা শাহ্‌ ছুফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী (মঃ) এঁর আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় মাইজভান্ডার দরবার শরীফে ২৭ রবিউল আওয়াল ঈদে মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম।

১০ মাঘ ২৩ জানুয়ারী ২০১৮ ইং গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী হজরত মাওলানা শাহ্‌ ছুফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (কঃ) এঁর ১১২ তম ওরশ শরীফ।

সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম রাহনুমায়ে শরীয়ত ও পীরে ত্বরিকত হযরত আলহাজ্ব মাওলানা শাহ্‌ ছুফি সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী (মঃ জিঃ আঃ) এঁর ব্যবস্থাপনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প।

গাউছিয়ত নীতি

১। তেলাওয়াতে অজুদঃ নির্জন সময়ে গত দিনের ভাল-মন্দ কাজ-কর্মের বিচার ,চিন্তা ও ধ্যানের মাধ্যমে মন্দের জন্য অনুতাপ, অনুশোচনা,ভালোর জন্য নিজ পীরের অনুগত্য এবং খোদার সাহায্য কামনা ,মোনাজাত ,বিনয়ে প্রার্থনা –অনিবার্য। ফলে খোদা পথচারী নাছুত্‌ভাব কামনার উর্ধে ‘লাওয়ামা’ ‘মলকুত’ শক্তি জগতে উত্থিত হইতে সক্ষম হয়। যাহাকে ছুফি পরিভাষায় ‘ফানা আনিল খালক্‌’ বলে।

২। অনর্থ পরিহারঃ যাহা না হইলে চলে ও উপকার বিহীন ,এহেন কাজ-কর্ম,কথাবার্তা,বাক্‌বিতন্ডা ত্যাগ ,পরিহার,এড়াইয়া চলা এবং পরের দোষ তালাস না করা ,পরমুখাপেক্ষীতা ও পরশ্রীকাতরতা – বিমুখ হইয়া ,নিজ শক্তি সামর্থে হালাল রুজির প্রতি আস্থাশীল হওয়া। অপচয় ,অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার-যথাঃপান,বিড়ি-সিগারেট,অলঙ্কার,অঙ্গ বিকৃতকারী পোষাক পরিচ্ছদ,পবিত্র কোরান যাহাকে ‘মর্হান’ অহংকারী ‘ফাখুরাণ’ গর্বকারী বলে নির্দেশ করেছে,যাহা মানবের দৈহিক ,নৈতিক অবনতি ঘটায়, কর্ম বিমুখতা,অভাব অনটন ,আর্থিক দুর্গতি আনয়ন করে। ভূষণ,ফ্যাসন,মোহের ফলে আদি অসভ্যতা ‘পছন্দ’ হইয়া পড়ে। সুতরাং এ সমস্ত পরিহারের ফলে খোদা পথচারী ‘ছালেক’ কোরানের বাণী “মান্নাহান্‌ নাফ্‌ছা আনিল হাওয়া ফাইন্নাল জান্নাতা হিয়াল মাওয়া” মতে নিশ্চিত স্বর্গবাসী, ইহাকে ছুফি পরিভাষায় বলে ‘ফানা আনিল হাওয়া’।

৩। সন্তোষঃ খোদার মঙ্গলদায়ক ইচ্ছা শক্তির নিকট নিজ সংসার স্বার্থ বুদ্ধিকে নত করিয়া মঙ্গলদায়ক রূপের ধ্যানে ‘ছাবের’ ধৈর্যের সহিত অপেক্ষা করা। যেহেতু স্রষ্টা সৃষ্টির রক্ষক,পালক,বর্দ্ধক,মঙ্গলদায়ক। ছুফি পরিভাষায় এই গুনজ প্রকৃতিকে বলে ‘তছলিম’ বা ‘রজা’। এই ত্রিবিধ নীতিমালাই ‘ফানায়ে ছালাছা’ বা বিনাশ পদ্ধতি । যাহা হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী কেবলার সপ্ত পদ্ধতির অন্তর্গত। প্রথম অংশ ‘এবাদাতে মোত্‌নাফিয়া’ হিসাবে ‘ছালেক’ খোদা পথচারীর জন্য অপরিহার্য। উপরোক্ত গাউছিয়ত নীতিহীন,বিমুখ ব্যক্তির মাইজভান্ডারী তরিকার অনুসারী দাবী করা চলেনা।

বিনীত
খাদেমুল ফোক্‌রা সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী
সাজ্জাদানশীন,গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল,মাইজভান্ডার শরীফ,ফটিকছড়ি,চট্টগ্রাম। সুত্রঃমানব সভ্যতা